পার্বত্য চট্টগ্রামে পর্যটন: কিছু ধারণা

-জন ত্রিপুরা
পর্যটন প্রায়ই স্থানীয় জনগণের সাথে দ্বন্দ্ব এবং বিরক্তি সৃষ্টি করে, বিশেষ করে একবার যখন তার প্রভাবের বাস্তবতাগুলি স্পষ্ট হয়ে যায়। আদিবাসী জনগণের উপর পর্যটনের নেতিবাচক প্রভাবের উদাহরণগুলি সারা ইতিহাস জুড়ে রয়েছে এবং আজও তা অব্যাহতভাবে চলছে। সৈকতের হোটেলগুলি মাছ ধরার সম্প্রদায়গুলিকে স্থানচ্যুত করেছে যারা একসময় পেয়নং, মালয়েশিয়া এবং ফুকেট, থাইল্যান্ডের সমুদ্র সৈকতে সারিবদ্ধভাবে থাকত। কানাডার মোহাখ বিদ্রোহের সূত্রপাত হয়েছিল মোহাখদের কবরস্থানে একটি গল্ফ কোর্স সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা করে। হাওয়াই এবং বালিতে রিসোর্ট দ্বারা আদিবাসী মানুষদের কবর স্থান অনুচিতভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। অ্যামাজনের গ্রীষ্মমন্ডলীয় জঙ্গলে, অসংবেদী পর্যটন অপারেটররা ধর্মীয় অনুষ্ঠান বিঘিœত করেছে এবং যক্ষ্মার মতো রোগগুলি আদিবাসী সম্প্রদায়গুলিতেও নিয়ে এসেছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতিও এসব থেকে পৃথক নয়। আদিবাসী জুম্ম জনগণের অস্তিত্বের জন্য হুমকীমূলক এমন অনেক উন্নয়ন প্রকল্প পাকিস্তান আমলে নেওয়া হয় এবং আজও পর্যন্ত এ ধরনের কার্যক্রম বাংলাদেশ সরকার অব্যাহত রেখেছে। বাংলাদেশে অর্থনৈতিক ব্যবস্থার একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ মূলত আদিবাসী অঞ্চলে অবস্থিত প্রাকৃতিক সম্পদের শোষণের উপর ভিত্তি করে তৈরি। পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীরা ক্রমবর্ধমানভাবে এই অর্থনৈতিক উন্নয়নের কাঠামোর নিয়মিত নির্যাতনের শিকার। আদিবাসী জনগণের উপর আরোপিত উন্নয়নমূলক ও প্রক্রিয়াকরণের অবৈধ এবং বিভ্রান্তিকর নানা মডেল এই দেশ থেকে আদিবাসী সংস্কৃতি ও পরিচয় ধ্বংস করার ভূমিকা রেখে চলেছে।

Continue reading “পার্বত্য চট্টগ্রামে পর্যটন: কিছু ধারণা”